যাকাত শব্দের অর্থ

زكوة (যাকাত) শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে বরকত (বৃদ্ধি, প্রবৃদ্ধি), পবিত্রতা, পরিশুদ্ধি, ইত্যাদি।

আবার পবিত্র যাকাতকে কখনোصدقات (ছদাকাত) এবং কখনো انفاق (ইনফাক) শব্দ দ্বারাও উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্মানিত যাকাত উনার আহকাম সম্পর্কে প্রদর্শনী


সম্মানিত যাকাত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ নছীহত ।

সম্মানিত যাকাত সম্পর্কে প্রকাশিত কিতাব

সম্মানিত যাকাত সম্পর্কে বুকলেট

সম্মানিত যাকাত সম্পর্কে ওয়াকেয়া

ওয়াকেয়া-১: তাকদীর পরিবর্তন হয়

একজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হায়াত শেষ। উনাকে বলা হলো আপনার শেষ ইচ্ছে কি? উনি বললেন, আমার আহলিয়ার হাতের তৈরি রুটি খাওয়া। কিন্তু তিনি তখনও বিয়ে করেন নি। এখন উনার সাথে কে মেয়ে বিয়ে দিবেন। উনার তো হায়াত শেষ। যাই হোক উনি যেহেতু সাহাবী ছিলেন অন্য ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজী হলেন। বিয়ে হলো। রুটি তৈরি করা হলো। উনি যখন রুটি খেতে বসছেন, তখন একজন ভিখারী/সাওয়ালকারী এলেন। ভিখারী/সাওয়ালকারী বললে যে- আমি তিন দিন অনাহারে আছি। আমাকে কিছু খেতে দিন। তখন ঐ ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার এত সাধের রুটিটি ভিখারীকে দিয়ে দিলেন। সুবহানাল্লাহ! দেখা গেল রাত অতিবাহিত হয়ে দিন। কিন্তু তিনি বেঁচই রইলেন। তার পর দেখা গেলা উনার বিছানার নিচে একটি বড় অজাগর সাপ মরে পড়ে আছে তার মুখে সেই রুটি। সুবহানাল্লাহ! সুতরাং এটা স্পষ্ট যে দানের দ্বারা তাকদীরও পরিবর্তন হয়। সুবহানাল্লাহ!






ওয়াকেয়া-২: সংকোচ করা যাবেনা

عَنْ حَضَرَتْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدّهِ أَنَّ امْرَأَةً أَتَتْ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَعَهَا ابْنَةٌ لَـهَا وَفِى يَدِ ابْنَتِهَا مَسَكَتَانِ غَلِيظَتَانِ مِنْ ذَهَبٍ فَقَالَ لَـهَا أَتُعْطِينَ زَكوةَ هَذَا؟ قَالَتْ لَا قَالَ أَيَسُرُّكِ أَنْ يُسَوّرَكِ اللهُ بِـهِمَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ سِوَارَيْنِ مِنْ نَار. قَالَ فَخَلَعَتْهُمَا فَأَلْقَتْهُمَا إِلَى النَّبِىّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَتْ هُـمَا للهِ عَزَّ وَجَلَّ وَلِرَسُوْلِه صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. অর্থ : “হযরত আমর ইবনে শু’আইব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার সম্মানিত পিতা থেকে তিনি উনার সম্মানিত দাদা থেকে বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এক মহিলা ছাহাবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি আগমন করেন, উনার সাথে উনার একজন কন্যা ছিলেন। উনার কন্যার হাত মুবারক-এ সোনার দুটি মোটা চুরি ছিল। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, আপনি কি এর পবিত্র যাকাত প্রদান করেন? তিনি বলেন, না। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, আপনি কি পছন্দ করেন যে, আপনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি কিয়ামতের দিন এই দুটির পরিবর্তে আগুনের দুটি চুড়ি পরাবেন? তখন তিনি চুড়ি দুটি খুলে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রদান করেন এবং বলেন, এগুলো মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের জন্য।” (আবূ দাঊদ শরীফ, নাসায়ী শরীফ, তিরমিযী শরীফ)

ওয়কেয়া-৩: ঈমানের দলীল স্বরূপ

عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ بَعَثَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مُصَدِّقًا فَمَرَرْتُ بِرَجُلٍ فَلَمَّا جَمَعَ لِي مَالَهُ لَمْ أَجِدْ عَلَيْهِ فِيهِ إِلاَّ ابْنَةَ مَخَاضٍ فَقُلْتُ لَهُ أَدِّ ابْنَةَ مَخَاضٍ فَإِنَّهَا صَدَقَتُكَ ‏.‏ فَقَالَ ذَاكَ مَا لاَ لَبَنَ فِيهِ وَلاَ ظَهْرَ وَلَكِنْ هَذِهِ نَاقَةٌ فَتِيَّةٌ عَظِيمَةٌ سَمِينَةٌ فَخُذْهَا ‏.‏ فَقُلْتُ لَهُ مَا أَنَا بِآخِذٍ مَا لَمْ أُومَرْ بِهِ وَهَذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْكَ قَرِيبٌ فَإِنْ أَحْبَبْتَ أَنْ تَأْتِيَهُ فَتَعْرِضَ عَلَيْهِ مَا عَرَضْتَ عَلَىَّ فَافْعَلْ فَإِنْ قَبِلَهُ مِنْكَ قَبِلْتُهُ وَإِنْ رَدَّهُ عَلَيْكَ رَدَدْتُهُ ‏.‏ قَالَ فَإِنِّي فَاعِلٌ فَخَرَجَ مَعِي وَخَرَجَ بِالنَّاقَةِ الَّتِي عَرَضَ عَلَىَّ حَتَّى قَدِمْنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَتَانِي رَسُولُكَ لِيَأْخُذَ مِنِّي صَدَقَةَ مَالِي وَايْمُ اللَّهِ مَا قَامَ فِي مَالِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلاَ رَسُولُهُ قَطُّ قَبْلَهُ فَجَمَعْتُ لَهُ مَالِي فَزَعَمَ أَنَّ مَا عَلَىَّ فِيهِ ابْنَةُ مَخَاضٍ وَذَلِكَ مَا لاَ لَبَنَ فِيهِ وَلاَ ظَهْرَ وَقَدْ عَرَضْتُ عَلَيْهِ نَاقَةً فَتِيَّةً عَظِيمَةً لِيَأْخُذَهَا فَأَبَى عَلَىَّ وَهَا هِيَ ذِهِ قَدْ جِئْتُكَ بِهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ‏.‏ خُذْهَا فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ ذَاكَ الَّذِي عَلَيْكَ فَإِنْ تَطَوَّعْتَ بِخَيْرٍ آجَرَكَ اللَّهُ فِيهِ وَقَبِلْنَاهُ مِنْكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَهَا هِيَ ذِهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ جِئْتُكَ بِهَا فَخُذْهَا ‏.‏ قَالَ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِقَبْضِهَا وَدَعَا لَهُ فِي مَالِهِ بِالْبَرَكَةِ ‏. অর্থ : “হযরত উবাই ইবনে কাআ’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে যাকাত আদায় করার জন্য প্রেরন করলেন। আমি এক ব্যক্তির কাছে পৌছলাম। তিনি আমার সামনে উনার সম্পদ হাজির করলেন। সে সম্পদ ছিলো এতটুকু যে উনার উপর একটি এক বছরের উট যাকাত দেয়া জরুরী ছিলো। আমি বললাম, এক বছরের একটি বাচ্চা উষ্ট্রী দিয়ে দিন। তিনি বললেন, সে তো দুধও দিবে না এবং তার উপর সওয়ারও হওয়া যাবে না। কাজেই আমার এই উস্ট্রী গ্রহণ করুন এটি যৌবনে পদার্পন করেছে এবং এটি মোটা তাজা রয়েছে। অতএব আপনি এটিই গ্রহণ করুন। হযরত উবাই ইবনে কাআ’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক অনুমতি ছাড়া এটি গ্রহণ করতে পারবো না। তবে তিনি আপনার নিকটে পবিত্র মদীনা শরীফ অবস্থান মুবারক করছেন। আপনি ইচ্ছা হলে আপনার যে উট আমাকে দিতে চেয়েছেন, তা উনার কাছে পেশ করতে পারেন। যদি তিনি গ্রহণ করেন তাহলে আমিও তা গ্রহণ করবো। আর যদি তিনি গ্রহণ না করেন, তাহলে আমিও গ্রহণ করবো না। অতঃপর তিনি তৈরি হলেন এবং উটটি নিয়ে আমার সাথে ওয়ানা হলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট উপস্থিত হয়ে তিনি বললেন, হে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার নিয়োজিত উসূলকারী আমার কাছে যাকাত আদায়ের উদ্দেশ্যে এসেছিলেন। আর মহান আল্লাহ পাক উনার শপথ! প্রথমবারের মতো কেউ আপনার পক্ষ থেকে আমার কাছে আসলো। আমি উনার সামনে আমার সম্পদ পেশ করলে তিনি বললেন এক বছরের একটি বাচ্চা উট দিন। অথচ সেটি না দুধ দিবে না তার উপর সাওয়ার হওয়া সম্ভব হবে। আমি বললাম, এটি মোটা তাজা যুবক উট এটিই গ্রহণ করুন। কিন্তু তিনি নিচ্ছেন না। এখন আমি সেই উট নিয়ে আপনার কাছে হাজির হলাম। আপনি তা সানন্দে গ্রহণ করুন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আপনার উপর ওয়াজীব ছিলো তাই যা তিনি বলেছেন। কিন্তু যদি আপনি নিজের খুশিতে ভালোকাজ করতে চান তাহলে মহান আল্লাহ পাক আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিবেন। আর আমরাও তা গ্রহণ করবো। তিনি বললেন- এই উট উপস্থিত এটিই গ্রহণ করুন। সুতরাং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেটি গ্রহণ করার নির্দেশ মুবারক দিলেন এবং উনার সম্পদ বরকতের জন্য দুআ মুবারক করলেন। (সহীহ সুনানে আবু দাউদ শরীফ, প্রথম খণ্ড)

পবিত্র যাকাত ও উশর দাতাকে বিশেষভাবে বুঝানো

১) যাকাত দেয়া ফরয, গ্রহণ করা ফরয না, তাযীমের সাথে সম্মানের সাথে দিতে হবে। মুসলমানমাত্রই যাকাত দিতে হবে।
২) ৪০ ভাগের ১ ভাগ : ৩৯ ভাগ দিয়ে মহান আল্লাহ পাক কি ৪০ ভাগের কাজ করে দিতে পারেন না- অবশ্যই পারেন বরং ৪০ ভাগ দিয়ে ১০০ ভাগের কাজ করে দিবেন ও দেন।
৩) রামাদ্বান শরীফ এ ১টা ফরয = ৭০টা ফরয। ১ বছরের যাকাত = ৭০ বছরের যাকাত
مَثَلُ الَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَـهُمْ فِي سَبِيْلِ اللهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ فِي كُلِّ سُنبُلَةٍ مِّائَةُ حَبَّةٍ ۗ وَاللهُ يُضَاعِفُ لِمَن يَشَاءُ ۗ وَاللهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
৪) ১ এ ৭০০